কীভাবে এজরেঙ্ক (EdgeRank) ফেসবুকে কোন ব্র্যান্ড প্রমোশনে ভূমিকা রাখে!

4
197

যারা সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং নিয়ে কাজ করে তারা কম বেশি সবাই ফেসবুকের EdgeRank এর ব্যাপারে অবগত আছেন। EdgeRank হল ফেসবুকের একটি অ্যালগরিদম যা নির্ধারিত করে কোন ধরনের পোস্টগুলি ফেসবুক ইউজারদের নিউজফিডে দৃশ্যমান হবে। সাধারনত যে ধরনের পোস্টগুলি খুব বোরিং হয় সেগুলো ফেসবুক হাইড করে রাখে। সুতরাং কোন পোস্টের EdgeRank স্কোর যদি লো হয় তবে তা ইউজারদের নিকট আশানুরূপ দৃশ্যমান হবে না।

edgerank.005

বর্তমানে ব্র্যান্ড প্রমোশনের জন্য ফেসবুক পেইজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন। কারন ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে খুব সহজেই কোন ব্র্যান্ড বৃহৎ আকারে টার্গেটেড কাস্টমারের নিকট পৌছাতে পারে। কিন্তু পেইজের পোস্ট এর EdgeRank স্কোর যদি ভাল না হয় তবে তা কাঙ্খিত কাস্টমারের নিকট পৌছাতে পারবে না এবং ব্র্যান্ডটি এটির টার্গেট অনুযায়ী পরিচিতি লাভ করতে পারবে না।

যেভাবে এটি কাজ করে-

বলতে গেলে EdgeRank ক্রেডিট রেটিং এর মতো দৃশ্যমান নয় কিন্তু অনেক গুরুত্বপূর্ন। ফেসবুক মূলত EdgeRank স্কোর নির্ধারনে ৩টি বিষয় প্রাধান্য দেয়ঃ

১। Affinity: Affinity বলতে পেইজের পোস্টগুলির সাথে ফ্যানদের লাইক, কমেন্ট অথবা পোস্ট শেয়ারের মাধ্যমে এনগেইজমেন্টকে বুঝাচ্ছে এবং সেই সাথে ফেসবুক পেইজটি কতটুকু তার ফ্যানদের সাথে এনগেজ আছে সেটিও বিবেচনা করা হয়।

২। Edge Weight: Edge Weight নির্ধারনের ক্ষেত্রে কোন পোস্টের কি পরিমান শেয়ার এবং কমেন্ট আছে সেটা বিবেচনা করা হয়। এখানে লাইক মূখ্য বিষয় নয়।

৩। Time Decay: এর মানে হল যে পোস্ট যত লেটেস্ট হবে তার EdgeRank স্কোর তত বেশি হবে।

ফেসবুকের ব্র্যান্ড পেইজের EdgeRank বৃদ্ধিতে যে ৭ টি বিষয় অনুসরন করা উচিত!

১। পেইজে অবশ্যই কোয়ালিটি পোস্ট দিতে হবে। কারন কোয়ালিটি পোস্ট ফ্যানদের ভালো এনগেইজমেন্ট সৃষ্টি করে। আর যত ভালো এনগেইজমেন্ট, তত বেশি EdgeRank স্কোর।

২। পোস্টের লেখা বেশি বড় করা যাবে না। সাধারনত ৮০ ক্যারক্টার বা তার কম ক্যারক্টার সম্পন্ন লেখার পোস্ট বেশি শেয়ার হয়।

৩। সাধারনত ফটো বা ভিডিও টাইপের পোস্টগুলো ভালো এনগেইজমেন্ট সৃষ্টি করে কিন্তু কোন ভালো লেখার লিঙ্ক শেয়ার অথবা চতুরতাপূর্ন পোস্ট আরো ভালো কাজ করে। এখানে চতুরতাপূর্ন পোস্ট বলতে বোঝাচ্ছে পোস্টে ওয়ার্ড নিয়ে খেলা করা, ফ্যানদের প্রশ্ন করা অথবা শূন্যস্থান টাইপের লেখা ইত্যাদি।

৪। পরিসংখ্যান মোতাবেক ৯০% ইউজার কোন পেইজে লাইক দেওয়ার পর সেই পেইজে আর ফিরে আসে না। সুতরাং ফ্যানদের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য পেইজে প্রচুর পোস্ট দিতে হবে তবে এমনভাবে নয় যে তারা বিরক্ত হয়।

৫। ফেসবুকে ইউজাররা কোন সময়টাতে বেশি এক্টিভ থাকে সেটা খেয়াল করে পোস্ট করতে হবে। কারন আগেই বলেছি যত বেশি এনগেইজমেন্ট, তত বেশি EdgeRank স্কোর।

৬। ফ্যানদের কমেন্টগুলোতে যতটা সম্ভব রেসপন্স করা। এতে ফ্যানদের সাথে ভালো একটা এনগেইজমেন্ট সৃষ্টি হবে।

৭। পেইজে ব্র্যান্ড নিয়ে অতিরিক্ত এডভারটাইজমেন্ট করা থেকে বিরত থাকা কারন এটি ফ্যানদের বিরক্তের উদ্রেক সৃস্টি হতে পারে যা পেইজে ফ্যানদের এনগেইজমেন্ট কমিয়ে দিবে।

আশা করি এই বিষয় গুলো একটু খেয়াল করে কাজ করলে আপনি আশানুরূপ সাড়া পাবেন নতুবা আপনার পরিশ্রমের সঠিক মূল্যায়ন হবে না।

comments

4 COMMENTS

  1. মাহদী ভাই,
    আপনাকে অনেক ধন্যবাদ এমন একটি গুরুত্বপুর্ণ বিষয়কে এমন সহজ ও সুন্দর ভাবে তুলে ধরার জন্য। নতুন অনেক কিছুই জানলাম, আশা করি ভালো কাজে দিবে।

  2. এই ব্যাপারে আমি আগে কিছুই জানতাম না 😀 এই আর্টিকেল পরে বুঝলাম। আসলে এরকম কিছু যে আছে সেটাই জানতাম না। ধন্যবাদ 😀

  3. আপনাকে অনেক ধন্যবাদ এমন একটি গুরুত্বপুর্ণ বিষয়কে এমন সহজ ও সুন্দর ভাবে তুলে ধরার জন্য। নতুন অনেক কিছুই জানলাম, আশা করি ভালো কাজে দিবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here