একজন ব্যার্থ ফ্রিল্যান্সারের আর্তনাদ

20
512

সময়টা ছিল তখন ২০০৮। সবে মাত্র এসএসসি পরীক্ষা দিলাম। তখন তিন মাস সময় পাইলাম। সময়গুলো ক্রিকেট আর আড্ডা মেরে কাটিয়ে দিতাম। ক্রিকেট আর স্কুলের বোডিং এর সুবাদে বেশ কিছু ভাল বন্ধু পেলাম। তারা আজও আমার সাথে মিশে আছে। অনেকে বলে বন্ধু মানেই নাকি খারাপ। তবে আল্লাহ, মা বাবা এর পরে যে মানুষগুলো আমাকে বেশি হেল্প করে সেই লোকগুলো হচ্ছে আমার বন্ধুরা।

যাই হোক, এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার এক মাস পরে আম্মু কে বললাম- মা কম্পিউটার শিখব। এমনিতে খুব ছোট বেলা থেকে প্রযুক্তির প্রতি ঝোঁকটা ছিল অনেক বেশি। আম্মু আমার আব্বুর সাথে কথা বলে আমাকে কম্পিউটার শিখতে বেশ কিছু টাকা দিলেন, তারপর শুরু প্রযুক্তির সাথে পথ চলা। কম্পিউটার শেখার বেশ কিছুদিন পর দেখলাম ইন্টারনেটও শিখতে হবে। তারপর ইন্টারনেট শেখার সুবাদে বেশ কিছু ওয়েবসাইট ঘাটাঘাটি করতে লাগলাম। …হঠাৎ একদিন পড়ে ফেললাম ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ক একটা পোস্ট। আমার কাছে খুব খুব ভাল লাগে। তখন মনে হল নতুন এক দুনিয়ার সাথে পরিচিত হলাম। সাথে সাথে টিচারকে জিজ্ঞেস করলাম, কিন্তু উনি আমার কথার কোন পাত্তাই দিলেন না। তারপরও হতাশ হই নাই। শুরু করি পত্রিকা দেখা শুধু ‌’আই টি কর্নার’ দেখতাম মাঝে মধ্যে দুই একটা লেখা আসতো। কিন্তু সেটাও আমার ক্ষুধা নিবারণ করার মতো না। সেই সময় জানতাম না যে ব্লগে ফ্রিল্যান্সিং শিখার মত এতো বড় সম্পদ আছে। ইতিমধ্যে আব্বুর কাছে বায়না করলাম একটা কম্পিউটার কিনে দেওয়ার জন্য। আব্বু আমার সাথে কথা না ঘুরিয়ে সরাসরি বললেন- দেখ, আমি যদি তোকে এখন একটা কম্পিউটার কিনে দিই, তাহলে আমার তিন মাসের বেতন…………! আব্বুর কথা শেষ হতে না হতেই বললাম লাগবেনা আমার কম্পিউটার (কিছুটা রেগে কিছুটা বুঝে)। কিছু দিন চলতে লাগল এভাবেই তারপর হঠাৎ একদিন ঘুম থেকে উঠে দেখি চোখের সামনে একটা ল্যাপটপ। ভাবলাম কার না কার। আব্বু তখন ঘুমে। অনেক দূর বাস জার্নি করে এসেছেন। ধুর এত দেরি করে কে? আব্বু কে ঘুম থেকে উঠালাম। জিজ্ঞেস করলাম এইটা কার? উনি বললেন- এইটা তোমার। তারপর আমারে আর পায় কে! পরদিনই কিনে ফেললাম একটা গ্রামীনফোন ইন্টারনেট মডেম।

সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা : যখন ফ্রিল্যান্সিং শেখার জন্য পাগলপ্রায়, তখনই এক বড় ভাই সামনে নিয়ে আসল ফ্রিল্যান্সিং এর বাপ(ক্লিকযুদ্ধ) কে। আমাদের কে ভুল মন্ত্র (ফ্রিল্যান্সিং ট্রেইনিং) দিক্ষা দিয়া এই কাজে যোগ করে দেশের বেকারত্ব দূর করতে লাগলেন… তখন মোটামুটি বেশ ভালোই দিন পার করতে লাগলাম। কাহিনীটা শুরু হয় বেশ কিছু দিন পর ব্লগের একটা পোস্ট পাবলিশ হওয়ার পর। কোম্পানির অফিসসহ সারাদেশে মোটামুটি একটা ছোটখাট ভুমিকম্প! এর রেশ কাটতে না কাটতে ইট্রনেডো নিয়ে আসে কয়েকটা পত্রিকা। এরপর আর বড় ভাইকে তেমন একটা এলাকায় দেখা যায় না। এরই মধ্যে বেশ কিছু টাকা ইনভেস্ট করে ফেলেছি, যেটা মনে হয় আমার বাবা আমাকে বড় করতে এত টাকা খরচ করেন নাই। কিছুদিন পরে আমাদের ফ্রিল্যান্সিং (ক্লিকবাজি) কোম্পানি উধাও। মাথায় পড়লো তালগাছ, কবর হতে লাগল আমার ফ্রিল্যান্সার হওয়ার স্বপ্ন। পরিবার থেকে বেশ কথাও শুনতে হয়েছে আমাকে। এলাকা থেকেও আমার যে সন্মানটা ছিল সেটা কমতে লাগল। পড়া লেখারও আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছি অনেকটাই। আর ভালবাসতে পারলাম না আমার প্রিয় বইগুলোকে। ছুইতামওনা বইগুলো। হয়ত, আমার এলাকাবাসির মত বইগুলোও আমাকে ঘৃনা করা শুরু করেছিল।

Freelancer

তারপরও হাল ছাড়িনি। শুরু করলাম বিভিন্ন ব্লগ পড়া। হঠাৎ একদিন দেখলাম ফ্রিল্যান্সার এ বাংলাদেশের ডেভসটিম চ্যাম্পিয়ন…! দেখে খুবই উৎসাহিত হলাম। ভাবলাম ওনারা পারলে আমি পারব না কেন? এত কম বয়সে কত টাকা নস্ট করলাম। তারপরও আমার আম্মু আব্বুর ভালবাসা আমার প্রতি অতটুকু কমে নাই। মনে হয় যেন আরো বাড়ছে। সেই জন্যই মনে হয় গোপনে প্রতিদিন একবার হলেও বলতে হয় মা‌ ‘আই লাভ ইউ’। তারপর লোটা কম্বল নিয়া চলে আসলাম রাজধানী ঢাকায়। খুঁজতে থাকলাম ডেভসটিম ইনস্টিটিউট কে। পেয়েও গেলাম। দেখা করলাম ডেভসটিম এর সিইও আল-আমিন কবির ভাই’র সাথে। উনাকে খুলে বললাম সব। উনি কিছুক্ষন পর আমাকে বললেন, ইংরেজিতে আরেকটু স্কিলড হতে হবে। তারপর বুঝতে পারলাম উনাদেরকে টাকা নামক বস্তুটা খুব কম আকৃষ্ঠ করে। যদি করত তাহলে আমার কথা চিন্তা না করে আমার টাকার কথা চিন্তা করত আর আমাকে তখনই ভর্তি করিয়ে নিত। সিদ্ধান্ত নিয়ে কিছুদিন পর গিয়া ভর্তি হলাম। বর্তমানে নিজেকে অনেক গোছানো মনে হচ্ছে আর আত্ববিশ্বাসের লেভেলটাও দিন দিন উপরের দিকে উঠছে।

সবাইকে ধন্যবাদ কষ্ট করে এই অতিসাধারন পোস্টটা পড়ার জন্য। আমার জন্য দোয়া করবেন আমি যেন কিছু দিনের মধ্যে বাংলাদেশের বড় বড় সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজারদের কাতারে আসতে পারি এজ লাইক এজ তাহের চৌধুরী সুমন ভাই। আমার পরবর্তি পোস্ট শিরোনাম যেন এইটা হয় ‘কিভাবে ব্যার্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সফল ফ্রিল্যান্সার হবেন’। সেই প্রত্যাশায় রইলাম।

comments

20 COMMENTS

  1. Sharif Siddique দারুন লিখছ। তোমার লিখাটা পরে আমার মত সবাই উৎসাহিত হবে। আসা করি একরম উৎসাহ মূলক পোস্ট আমাদের জন্য আর উপহার দিবে।

  2. ইনশাহআল্লাহ ভাইয়া পাবে…………………। তোমার মতামতের জন্য ধন্যবাদ

  3. আপনার লেখাগুলো পড়ে আমি অনেক অনেক অনেক অনেক অনেক অনেক অনেক চার্জিত হলাম। এগিয়ে যান। শুধু নিজের জন্য নয়। দেশের জন্যও। সবাই মিলে দেশকে একদিন প্রথম কাতারে নিয়ে যাব ইনশাআল্লা।

  4. ভাইয়া আপনার পোস্টটা পড়ে অনেক কিছু শিখতে পারলাম……।।আপনার জন্য দোয়া রইলো
    ধন্যবাদ পোস্টের জন্য

  5. আমির হোসাইন ভাইয়া আপনার সুন্দর মন্ত্যব্যের জন্য ধন্যবাদ ভাল থাকবেন

  6. অনেক ভালো লাগলো আপনার কথা শুনে , আশা করছি ভালো করতে পারবেন , আপনার অনেক দোয়া রইল …

  7. ধন্যবাদ আঞ্জান ভাইয়া আপনার সুন্দর মন্ত্যব্যের জন্য

  8. ভাইয়া আমি অনলাইন এ আয় করতে চাই আমাকে হেল্প করেন প্লিজ

  9. At first sorry, coz I don’t type in Bangla…….

    Ai nie 22 bar ai post ta porlam. Ek jon manusher berthotar kahini ar ek joner shathe etota mile jabe kolponate asheni kokhono. Apner post ti pore mone holo amar jiboner kahini porchi. Ami onekdin jabot freelancing practice korchi, but karo kas theke etotuku help kokhono paini. Amar porichito kisu vai jara kina freelancing kore tader kase onek bar jauar poreo kono kaj hoi ni. Ami ekti prothistan e course korechi. But kono lav hoi nai, kisui shikhte pari nai. Shudhu shudhu 20,000 tk jole dilam. But ekhono lege asi ebong chesta chalie jabo. Ar link ti copy kore rakhlam ai post thekhe porobortite knowledge newar jonno. Dekhi nijer chestai kotodur jete pari…………………
    Thank You.

    • নাফিউল ভাইয়া ,প্রথমে আপনাকে সরি বলে নিচ্চি এই কারনে যে আপনার কমেন্টের রিফ্লাই দিতে অনেক দেরি হয়ে গেল
      আপনাকে অনেক ধন্যবাদ কমেন্টির জন্য ভাই আমি আমার লাইফের একটা অংশকে কেটে এনে এখানে দিইয়েছি আমি জানি আমার মত বাংলাদেশে অনেক ছেলে পেলে আছে এখন যারা কিনা এখনও হতাস আল্লাহ আমাদের সকল কে এই হতাশা থেকে রক্ষা করুন আমিন
      ভাইয়া আমাকে ফেইসবুকে এড করতে পারেন ধন্যবাদ http://www.facebook.com/sharif.siddique786

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here