ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইটি সোসাইটির সেমিনারে যা শিখিয়েছিলাম…

লেখাটি দেরি হয়ে গেল কিনা বুঝতে পারছি না, তবুও কিছু বিষয় শেয়ার করা যৌক্তিক মনে করছি। গত ৭ই মে, ২০১২ আমি ডেভসটিম এর পক্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি সোসাইটির আমন্ত্রনে আউটসোর্সিং এর উপর সেমিনার আয়োজন করেছিলাম। সেখানে আমি আলোচনা করেছিলাম ব্লগিং এবং অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের উপর। জানিয়েছিলাম কিভাবে ব্লগ লিখে কিংবা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে টাকা আয় করা সম্ভব। ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে যতটা আগ্রহ সেখানে দেখেছি, তারচেয়ে অংশগ্রহণকারীদের আগ্রহ ছিল ওয়েব এন্টারপ্রিনারশিপ নিয়ে।

DUITS Seminar, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আই.টি সোসাইটির সেমিনার

সেমিনারে যাবার পূর্বে আমার একটা ধারনা ছিল যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বেশিরভাগই বড় কর্পোরেট চাকুরিতে আগ্রহী বেশি। এখানে ফ্রিল্যান্সিং কিংবা মুক্ত পেশায় আগ্রহীদের সংখ্যা খুব বেশি পাওয়া যাবেনা। তবে যখন সেমিনার হলে প্রবেশ করলাম তখনই বদলে গেল আমার ধারণা। হল ভর্তি শিক্ষার্থী, সবাই এসেছে ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং কিংবা মুক্ত পেশার সাত সতের জানতে!

পেশাগত ভাবে আমি যেহেতু ব্লগার ও এফিলিয়েট মার্কেটার, সুতরাং এ বিষয়েই সেমিনারে আমি কথা বলেছি। বিষয়গুলো নিয়ে যদি বিস্তারিত আলাপ করতে হয় তবে নিশ্চিত এক দেড়-মাস লেগে যাবে। সেখানে মাত্র ৩০ মিনিটে আমাকে ওভারাল বিষয়ে আলোচনা করতে হয়েছে, এ কারণে বেসিক বিষয়গুলো ছাড়া ডিপ টেকনিক্যাল কোন কিছু নিয়ে আলাপ করতে পারিনি।

প্রথমেই আমি বলেছি ব্লগিং কি? এর পর আমি একে একে ব্লগিং কিভাবে করতে হয়, ব্লগিং করতে কি কি বিষয় জানতে হয়, ব্লগিং করে কিভাবে স্বাবলম্বি হওয়া যায় এই সব বিষয় তুলে ধরি। পরবর্তীতে আমি এফিলিয়েশন মার্কেটিং কি? কিভাবে করতে হয়, এফিলিয়েট করতে কি কি বিষয় জানতে হয়, এফিলিয়েট করে কিভাবে স্বাবলম্বি হওয়া যায় তা বলি। অসাধারণ সাড়া পেয়েছি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে। আগ্রহ নিয়ে তারা যেমন জেনেছেন তেমনি প্রশ্ন করেছেন তাদের জিজ্ঞাসাগুলো নিয়েও।

DUITS Seminarবেসিক আলোচনার পর ছিল কেস স্টাডি, সবাইকে আমি আমার নিজের ব্লগিং জীবন নিয়ে গল্প বলেছি, জানিয়েছি কিভাবে পেশাদার ব্লগার হওয়া যায়। আমি কবে থেকে ব্লগিং শুরু করেছিলাম, কিভাবে শুরু করেছিলাম, সাফলতা পেতে আমার কত সময় লেগেছিল, বর্তমান ব্লগিং অবস্থা ইত্যাদি নিয়েও আলোচনা করেছি। যখন বলেছি ব্লগ লিখেই আমার প্রতিমাসে আয় ২-৩ হাজার ডলার সবাই খুব অবাক হয়েছে। আমার প্রেজেন্টেশনের একটা অংশে তাই আমি আমার গুগল অ্যাডসেন্স থেকে পাওয়া ১ হাজার ৮ ডলারের একটি চেকের স্ক্রিনশট যুক্ত করেছিলাম, যেটি শিক্ষার্থীদের ব্লগিংয়ে আয়ের উপর আরও আগ্রহী করে তুলে। শুধু ব্লগ লিখেই যে মাসে ২ থেকে ৩ হাজার ডলার আয় করা যায় এটি তাদের সেমিনারের মাধ্যমে বিশ্বাস করাতে পেরেছিলাম সেদিন, এটি এই সেমিনারের অন্যতম সফলতা বলে আমি মনে করি।

যেহেতু আমার হাতে সময় ছিল অনেক কম তাই, আমি আর দেরি না করে তাই প্রশ্ন উত্তর পর্বে চলে যাই। প্রশ্ন উত্তর পর্বে যাবার আগে আমি অনেকটা নিশ্চিত ছিলাম যে, হয়তবা এদের কাছ থেকে প্রশ্ন গুলো আসবে অনেক সহজ ও স্বাবলীল। কিন্তু আমার ধারনা দ্বিতীয় বারের জন্য ভুল প্রমাণিত হল। অনেক অ্যাডভান্স লেভেলের প্রশ্ন সেদিন পেয়েছি আমরা।]

ব্লগিং শেখার জন্য আমি কিছু ওয়েবসাইটের ঠিকানা সেদিন দিয়েছিলাম। প্রোব্লগার, কপিব্লগার এবং ম্যাশেবল। সর্বশেষ গুগলে সার্চ করে শিখতে উৎসাহ দিয়েছিলাম তাদের! এরপর অনেকেই আমার কাছে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এস.ই.ও) সম্পর্কে জানতে চেয়েছিল, আমি তাদের এস.ই.ও-র সম্পর্কে সমান্য ধারনা দেই কারন আমার হতে তখন পযার্প্ত সময় ছিল না। তবে সে সেমিনারে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ টুকু দেয়ার চেষ্টা করেছি। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সেদিন যে সাড়া পেয়েছি তার জন্য তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। আশা করছি ব্লগিং এবং অনলাইন ব্যবসা সম্পর্কিত অ্যাডভান্স লেভেলের কিছু কর্মশালাও তাঁদের জন্য আমরা আয়োজন করতে পারবো শীঘ্রই।

comments

9 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here