অভিজ্ঞদের সাহায্য না পেলে বাংলাদেশ থেকে কোন দিনও পিটিসি, ক্লিক অ্যাডস’র ভুতের ডলার তাড়ানো যাবে না!

লেখক : , প্রকাশকাল : 01 July, 2012

হুম, প্রশ্নটি আপনাকেই করলাম!

যদি মনে করেন যারা পেইড টু ক্লিক (পিটিসি) কাজ করতে চায় করুক, তাতে আমার কি ? হাঁ মনে করতেই পারেন । কিন্তু দুই দিন পর ঠিক আপনি দেখবেন যে আপনার পাশের বাড়ির ছোট ভাই সামান্য কয়টি টাকার জন্যে আর অনলাইনে কাজের ধারনা না থাকায় একই পথে পা দিয়েছে । সেই ছোট ভাইটি আপনার বন্ধু এমনকি আপনার নিজের ছোটভাইও হতে পারে। কেমন লাগবে আপনার ? অবশ্যই খারাপ লাগারই কথা । আরো বেশি খারাপ লাগবে যখন চাকুরীর জন্যে হন্যে হয়ে খুঁজে ফেরা এক বেকার আপনার কাছে একটা কাজ চাইবে, তখন হয়তো তাকে একটা কাজ দিতেও পারেন, কিন্তু যারা আপনার কাছে হাত পাততে লজ্জা করে! তাদের কে তো আপনি আগ বাড়িয়ে কাজ দিতে যাবেন না, (হা যেতে পারেন, তাহলে মানবো আপনি সেই মহৎ) কিন্তু কয়জন পারেন এই মহত্ব দেখাতে ?

বাংলাদেশ এর বেকার সমস্যার প্রেক্ষাপট ?

এটি নতুন কোন বিষয় নয় তাই জ্বালা দিয়ে আপনাদের মাথা নষ্ট করব না।

আমাদের সমাজ উপযুগী পদক্ষেপ আর সঠিক পরিকল্পনার অভাবে আমাদের আরো গভীর অন্ধকারে নিয়ে যাচ্ছে, তাতে আমাদের কোন সন্দেহ নেই। ছোট দেশ আর বিশাল জনগোষ্টী আমাদের সম্পদ যেন গ্রাস করছে, নানা মুখি সমস্যা সমাধানও শুধু মাত্র সরকার এর প্রত্যাশায় থাকা যেন আমাদের তীর্তের কাকের মত করে তুলেছে!

কোথায় একটা কাজ পাই ? একটা কাজ দেন !

আমাদের মানুষ আমাদের সম্ভাবনা !!

আমাদের মানুষ গুলো কি দেশের জন্য বোঝা ? না কখনই নয়, একেক জন মানুষ একেকটা সম্ভাবনা, একেকটা আকাশের তারা। শুধুমাত্র আকাশে উড়তেই যা একটু বাধা আমাদের, আমাদের জনগন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাজ করছে, তাদের মেধা, শ্রম আর সাধনা কে কাজে লাগাচ্ছে অন্য জাতি, তাহলে তারা কিভাবে বোঝা হয় ? এই মানুষগুলোই পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা পেলে দেশের জন্য সম্ভাবনা, একেকটি সম্পদ হতে পারে।

অনলাইন খুলে দিয়েছে আমাদের নতুন সম্ভবনার দুয়ার !

অনলাইনে আয় এটাও এখন অনেকের কাছে পুরনো হয়ে গেছে! কিন্তু বিশাল একটা সংখ্যার মেধাবী রয়ে গেছে অন্ধকারে, তাদের কাছে পিটিসি, ক্লিক অ্যাডস, মাল্টিলেভেল মার্কেটি [এমএলএম] এর ভুতের ডলার এখন বিল গেটস হবার স্বপ্ন দেখায়। ক্লিকে ক্লিকে ভেসে যেতে যায় দশতলা বিল্ডিং বানানোর স্বপ্ন, কিন্তু বিল্ডিং বানানোর আগেই দেখা যায় বিল্ডার্স কোম্পানী টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। ফলে একটা রড কেনার টাকাও জোটে না!!

এরই ঠিক বিপরীতে আমার মাথা নষ্ট হয় যখন অনবরত ফেইসবুকে বন্ধুদের টাকা ইনকামের বিশাল বাজেট, আর ৫০০/১০০০ ঘন্টার কাজ শেষ করার নতুন নতুন রেকর্ড দেখি। ওডেস্ক, ফ্রিল্যান্সার ডটকমসহ মার্কেটপ্লেসে তাদের অবস্থান দেখে সত্যিই ভালো লাগে।

হা একটু পরিশ্রম, মেধা আর কৌশল হতে পারে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার, যারা ইতিমধ্যেই এই কাজের সাধ পেয়েছেন তারা নিশ্চই বুঝতে পারছেন যে স্বপ্ন দেখার সাথে কতটা মেধা, শ্রম দিতে হয়।

তাহলে যারা কাজ শিখতে চায়, পরিশ্রম করতে চায় তারা কেন পিছিয়ে থাকবেন ? কারণ কাজ শিখলে কখনো সেটি বৃথা যায় না। সেই কাজের দক্ষতার উপর নির্ভর করে আপনি স্বাচ্ছন্দে পার করে দিতে পারেন আজীবন।

এই কাজ শেখাদের কে কি সাহায্য করা উচিত নয় ? সামান্য কিছু পরামর্শ, গাইডলাইন, কাজের সুযোগ করে দিয়ে ?

earntricks.com কে বিশেষ ধন্যবাদ, অনেক পরিশ্রম করে যাচ্ছে অনলাইন এ কাজ বিষয়ক প্রচার এবং সচেতনতা তৈরীর জন্যে এবং তাদের এই প্রচেষ্টা একদিন অনেক বড় সাফল্য নিয়ে আসবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা। আর্নট্রিক্স একসময় দেশের নতুন পুরাতন ফ্রিল্যান্সারদের প্রধান প্রতিনিধিত্ব করবে সেটাই দেখার প্রত্যাশায়।

সৌজন্যে:
www.odataentry.com
ফেবু লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/oDataEntry

comments

Comments

  1. ধন্যবাদ মামুন আপনার সুন্দর লেখাটার জন্য। আশাকরি নিয়মিত লিখবেন আর্নট্রিক্স এর জন্য। আপনার পরবর্তি লেখার আশায় রইলাম 🙂

    • আপনার উত্তরের প্রত্যাশায় ছিলাম… অনেক ধন্যবাদ লেখাটি প্রকাশ করার জন্যে… আশা করি সামান্য কিছু লিখা উপহার দিতে পারব

মন্তব্য প্রদান করুন

*