অ্যাপের বিলিয়ন বাজারে বাংলাদেশ!

লেখক : , প্রকাশকাল : 19 November, 2012

এ মুর্হূতে তৃতীয় বিশ্বের দেশ হিসেবে বাংলাদেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে উন্নয়নের প্রবৃদ্ধিতে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি। ভিশন ২০২১ রূপকল্পের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তিকেন্দ্রিক স্বনির্ভর বাংলাদেশ বির্নিমাণে আছে সরকারি উদ্যোগ।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে মোবাইল ফোন প্রচলনের এক দশকের মধ্যেই ১০ কোটি গ্রাহকের হাতে এ ফোন পৌঁছে যায়। বিটিআরসির সূত্র মতে, এ গ্রাহক সংখ্যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় দুই তৃতীয়াংশেরও বেশি। এখন দেশের প্রত্যন্ত গ্রামগঞ্জে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট কানেক্টিভিটির আওতায় এসেছে। এ ছাড়াও দ্রুতগতিতে বাড়ছে দেশের ইন্টারনেট জনসংখ্যা। ফলে বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেটের ব্যবহার এবং নির্ভরতা দুটিই বাড়ছে।

apps useing by girl
ইন্টারন্যাশনাল টেলিকম ইউনিয়নের সূত্র মতে, ২০১০ সালে বিশ্বে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ১৯০ কোটি। ২০২০ সালের মধ্যে এ সংখ্যা ৫০০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। সঙ্গে বাড়বে মোবাইলের গ্রাহক সংখ্যাও। ২০১০ সালে বিশ্বে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ৫০০ কোটি। ২০২০ সালে বেড়ে তা ১ হাজার কোটি ছাড়িয়ে যাবে।

এদিকে বাংলাদেশে ইন্টারনেটভিত্তিক ব্যবসা এবং সেবার পরিধি বাড়ছে দ্রুতগতিতে। দেশের মোট জনসংখ্যার তুলনায় যদিও এ সংখ্যা এখনও অনেক কম। কিন্তু এ সংখ্যা বাড়ছে সব রকমের গাণিতিক হিসাবকে ছাড়িয়ে। এ জন্য ইন্টারনেটভিত্তিক নতুন ব্যবসায়িক এবং সেবার ধারণাও যুক্ত হচ্ছে প্রতিদিনই।

বিশ্বব্যাপী নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তি বিশ্লেষক সংস্থা ব্যবসা গবেষণা প্রতিষ্ঠান গার্টনারের সূত্র মতে, ২০১৪ সালের মধ্যে মোবাইল ফোননির্ভর অ্যাপলিকেশন তৈরির বাজারের আর্থিক মূল্য হবে ৩ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের বেশি। এ সময়ের মধ্যে অ্যাপলিকেশন ডাউনলোড হবে প্রায় ২ হাজার ১০০ কোটি।

app-store-apps
বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম এখন অনলাইন আউটসোর্সিংনির্ভর ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারে আগ্রহী। আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে ফ্রিল্যান্সিং আউটসোর্সিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে। গার্টনারের সূত্র মতে, ২০১০ সালের তুলনায় ২০১১ সালের আউটসোর্সিং খাতের বাজার অনেকটা বড় হয়েছে। আইটি আউটসোর্সিং এবং বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিংয়ের বাজার গত এক দশকে যেভাবে বাড়ছে, এ হিসাবে আগামী ৫ বছরের মধ্যে এ বাজার গিয়ে বাজারের পরিসর দ্বিগুণ হবে।

এ মুহূর্তে প্রযুক্তির বিশ্বে বিভিন্ন ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় মোবাইল অ্যাপস জনপ্রিয় হচ্ছে। বিশ্বপ্রযুক্তির বাজারে এ খাত এখন সবচেয়ে বেশি অগ্রসরমান। এর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে দৈনন্দিন জীবনে মোবাইল ফোন এবং স্মার্টফোনের ব্যবহার।

এ সময়ের স্মার্টফোন ভোক্তারা শুধু ইন্টারনেট ব্যবহারেই সীমাবদ্ধ থাকতে চান না। এ জন্যই এসব স্মার্টফোনের জন্য ব্যবহারকারীর চাহিদার ভিত্তিতে অ্যাপলিকেশন তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। ভবিষ্যতে বিশ্বের সব খ্যাতনামা স্মার্টফোন নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান অ্যাপসের দিকে ঝুঁকছেন।

এতে অ্যাপের বাজার চাহিদা এবং গ্রহণযোগ্যতা প্রতিনিয়তই বাড়ছে। ক্রমেই নিত্যনতুন চাহিদা বা ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। এসব স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর উপযোগী করার জন্য যেকোনো ধরনের অ্যাপলিকেশন তৈরি করাকে মোবাইল অ্যাপলিকেশন ডেভেলপমেন্ট। আইফোন, অ্যানড্রইড, ব্ল্যাকবেরি এবং উইন্ডোজ সর্বাধিক ব্যবহৃত মোবাইল প্ল্যাটফর্ম।

স্মার্টফোনের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সমতালে বাড়ছে অ্যাপলিকেশনের ব্যবহার। গত বছর এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মোবাইল অ্যাপলিকেশন ডাউনলোডের পরিমাণ ছিল ১৬০ কোটি। কিন্তু এ বছরের শেষভাগে এসে এ সংখ্যা বেড়ে হবে তিনগুণেরও বেশি। বাজার বিশ্লেষক ওভাম সূত্র এ তথ্য দিয়েছে।

আর এ বছরের বাজার বিশ্লেষণে অনুমান করা হচ্ছে, এ বছরে এর পরিমাণ হবে ৫০০ কোটি। আর মোবাইল অ্যাপলিকেশন ডাউনলোডের এ বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে ২০১৬ সাল পর্যন্ত। ওভামের প্রতিবেদনে প্রকাশ, ২০১৬ সালে এশীয় অঞ্চলে মোবাইল অ্যাপলিকেশন ডাউনলোডের পরিমাণ হবে ১ হাজার ৪০০ কোটি।

এর ফলে মোবাইল অ্যাপলিকেশনভিত্তিক বাজারও বাড়ছে অধিক হারে। ২০১০ সালে এ বাজারের আকার ছিল ৩০ কোটি ২০ লাখ মিলিয়ন ডলার। এ বছরের শেষে বেড়ে তা দাঁড়াবে ৮৭ কোটি ১০ লাখ মিলিয়ন ডলারে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এ বাজার বেড়ে পরিণত হবে ২২০ কোটি বিলিয়ন ডলারে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন এবং ব্যবসা সেবা প্রদানের উদ্দেশ্যে ১৯৯৯ সালে ইএটিল প্রতিষ্ঠিত হয়। কৌশলগত পরিকল্পনা, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা নিয়েই এ প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে।

মোবাইল অ্যাপসের জনপ্রিয়তা এবং ব্যবহারিক বৃদ্ধির কারণে ইএটিল দেশীয় প্রযুক্তি ও প্রকৌশলীর মাধ্যমে প্রস্তুত করছে দেশীয় মোবাইল অ্যাপস। ইএটিএল অ্যাপসের ওয়েবসাইট থেকে আগ্রহীরা সহজে এ সব অ্যাপস ডাউনলোড এবং আপলোড করার সুযোগ পাবেন।

appstore
ফ্রিল্যান্সার মোবাইল অ্যাপস নির্মাতাদের জন্য এ সাইটটি মার্কেট প্লেস হিসেবে কাজ করবে। অভিজ্ঞরা তাদের তৈরি মোবাইল অ্যাপস এ সাইটের মাধ্যমে বিক্রি করতে পারবেন। এ মুহূর্তে শুধু বিক্যাশের মাধ্যমে অ্যাপস ক্রয়-বিক্রয় করা হচ্ছে।

এ মুহূর্তে বাংলাদেশ থেকেও অ্যাপলিকেশননির্ভর বিশ্বমানের কাজ হচ্ছে। মোবাইল অ্যাপলিকেশন ডেভেলপমেন্টে বাজার সময়ের সঙ্গে সুসম্প্রসারিত হচ্ছে। প্রতিদিনই নিত্যনতুন প্রতিষ্ঠান এ বাজারে যুক্ত হচ্ছে। বাংলাদেশের মোবাইল অ্যাপস নির্মাতাদের আন্তর্জাতিক বাজারের স¤পৃক্ত করতেই ইএটিএল অ্যাপস তৈরি করেছে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে।

স্মার্টফোনভিত্তিক অ্যাপলিকেশন ডেভেলপমেন্ট বাংলাদেশে পেশা হিসেবে সম্ভাবনাময়। বাংলাদেশে অনেক সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান মোবাইল অ্যাপলিকেশন তৈরি করে আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান করে নিয়েছে। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর নানা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নিয়মিত পুরস্কৃত হচ্ছে।

গুগল, এসিএম এবং আইওসের মতো প্রতিষ্ঠানে কাজে দক্ষতা দেখাচ্ছে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের তথ্যপ্রযুক্তিবিদ এবং উদ্যোক্তারা। এ তরুণ উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশের বাজারে অংশগ্রহণে মার্কেট প্লেসের তৈরিতে কাজ করবে ‘ইএটিএল অ্যাপস’। এ মার্কেট প্লেসের মাধ্যমে অ্যাপ উন্নয়করা (www.eatlapps.com) এ সাইটে তৈরি অ্যাপস অনালাইনে বিক্রি করতে পারবেন।

ইএটিএল কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক যোগাযোগের ওপর অ্যানড্রইড এবং জাভা মোবাইলের জন্য বেশ কিছু অ্যাপস তৈরি করছে। এর মাধ্যমে সহজে ডিজিটাল কনটেন্ট সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো যাব। ইন্টারনেট ও মোবাইল প্রযুক্তিতে বাংলা কনটেন্টের অপ্রতুলতা আছে। এ অপ্রতুল কনটেন্টের মান এবং সংখ্যা বাড়াতেও কাজ ইএটিএল কাজ করবে।

comments

মন্তব্য প্রদান করুন

*