সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন – বায়ারদের প্রথম পছন্দ বাংলাদেশ!

লেখক : , প্রকাশকাল : 16 January, 2013

Solar Sunrise Talhaইন্টারনেট বাণিজ্যের এই যুগে ওয়েবসাইট ছাড়া কোন প্রতিষ্ঠানকে তো কল্পনাই করা যায় না! আবার ওয়েবসাইট থাকলেই কিন্তু এখন চলেনা। এটি সর্বত্র পৌছে দিতে ব্যাপক মার্কেটিংয়েরও প্রয়োজন হয়। একটি ওয়েবসাইটকে সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি উপায়। দিন দিন বিশ্বব্যাপি যত ওয়েবসাইট বাড়ছে, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের কাজের ক্ষেত্রও অনেক বাড়ছে। ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোতেও তাই দিন দিন বাড়ছে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের কাজ। আর এ হিসাবে ফ্রিল্যান্সার হতে চাওয়া তরুণ-তরুণীদের অন্যতম পছন্দ হতে পারে এ ক্ষেত্রটি। ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেসগুলোর তথ্যানুসারে, একজন সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজার মাসে ৫০ হাজার থেকে শুরু করে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন। প্রয়োজন কেবল সঠিক নির্দেশনা, প্রচেষ্টা, ধৈর্য এবং সময়। বর্তমানে ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও এই পেশায় বেশ ভালো করছে। জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন সম্পর্কিত ব্লগ এসইওমজ-এর ডাটা অনুযায়ী প্রতি ১০০ জন ফ্রিল্যান্স সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজারদের মধ্যে ২৩ জনই নারী।

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন
সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন শব্দগুচ্ছটিতে তিনটি শব্দের যোগ হয়েছে। প্রথম দুটি হল সার্চ ইঞ্জিন এবং অপরটি হলো অপটিমাইজেশন। সার্চ ইঞ্জিন বলতে- একটা ওয়েব সাইট যার মাধ্যমে সার্চ করে আমরা আমাদের কাঙ্খিত তথ্য খুব সহজে খুঁজে পেতে পারি। যেমন: গুগল, ইয়াহু, বিং এবং বাইদু। আর অপটিমাইজেশন মুলত কিছু পদ্ধতি বা কৌশল। আমরা জানি, ইন্টারনেটে প্রতিটি বিষয় নিয়ে হাজারো ওয়েবসাইট আছে। কিন্তু যখন সার্চ ইঞ্জিনে সে বিষয়ে খোঁজ করি বা সার্চ দেই তখন সব থেকে ভাল মানের ১০ টা ওয়েব সাইটকে ফলাফল হিসেবে প্রথম পেজে দেখতে পাই। হাজারো ওয়েবসাইট থেকে যেহেতু মাত্র ১০ টি ওয়েবসাইট প্রথম পাতায় দেখায়, তাই সবার লক্ষ্য থাকে এ পাতায় যাতে তাঁর নিজের ওয়েবসাইটটি থাকে। কারণ ব্যবহারকারীরা সাধারণত শীর্ষ দশের মধ্যে তার কাংখিত ওয়েবসাইটকে না পেলে দ্বিতীয় পাতায় না গিয়ে অন্য কোন শব্দ ব্যবহার করে পুনরায় সার্চ করেন। সাধারণত ব্যবহারকারী লিস্টের প্রথম দিকে যেসকল সাইটের ঠিকানা থাকে তার মধ্যেই বেশি ভিজিট করেন। আর এ কারণেই প্রথম দিকে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসায়িকভাবেও বেশি সফল হয়ে থাকে।

একটি ওয়েবসাইটকে গুগলের প্রথমদিকে নিয়ে আসার যে কৌশল সেগুলোকেই মূলত সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বলা হয়ে থাকে। সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনকে প্রধানত দুভাবে ভাগ করা হয়, অনপেজ অপটিমাইজেশনঅফপেজ অপটিমাইজেশন

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের গুরুত্ব
যেহেতু অধিকাংশ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী তার প্রয়োজনীয় তথ্য সার্চ ইঞ্জিনে সার্চ করে, তাই পণ্যের প্রচার এবং বিক্রি বাড়াতে সার্চ ইঞ্জিন রেজাল্টে সবার উপরে যাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদি আপনার পণ্য এবং সেবা সংশ্লিষ্ঠ কিওয়ার্ড লিখে সার্চ করলে আপনার ওয়েবসাইটকে সবার আগে দেখায় তাহলে ভিজিটররা আপনার সাইটেই বেশি ক্লিক করবে। আর বেশি ক্লায়েন্ট আসলে বেশি বিক্রি, এটি তো জানা কথা!

আপনি একজন ব্লগার, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার, ই-কমার্স উদ্যোক্তা, সার্ভিস প্রোভাইডার অথবা ফ্র্রিল্যান্সার যাই হোন না কেনো, গ্রাহক খুঁজে পাওয়ার জন্য আপনার এসইও করতেই হবে।
আরও সহজভাবে বললে ইন্টারনেট থেকে যেভাবেই আয় করেন না কেন আপনাকে ওয়েবসাইটের মাধ্যমেই করতে হবে। আর এ ওয়েবসাইটের প্রমোশনের জন্য আপনার এসইও করতেই হবে!

এসইওতে ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার
একজন সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজার ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে দু’ভাবে কাজ করতে পারে। ঘন্টা হিসেবে এবং নির্ধারিত মূল্যে। আর এখানে পার্ট টাইম এবং ফুল টাইম কাজ করারও সুযোগ আছে। দক্ষ সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজার হতে পারলে কাজের অভাব নেই। অনলাইন মার্কেটপ্লেসে সাধারণত সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের যে কাজগুলো পাওয়া যায় তার মধ্যে একটি সাইটকে গুগলের প্রথম পেজে অথবা ১ নম্বর র‌্যাংকিং এ আনা, কিওয়ার্ড রিসার্চ, ব্যাকলিঙ্ক তৈরি বা লিংক বিল্ডিং, সাইটের অনপেজ অপটিমাইজেশন, সোশ্যাল বুকমার্কিং সহ বিভিন্ন কাজ উল্লেখযোগ্য। সার্চ ইঞ্জিনের সার্চ পদ্ধতির নানা পরিবর্তনের কারণে কাজের ক্ষেত্রেও দিন দিন পরিবর্তন আসছে। বর্তমানে সার্চ ইঞ্জিন জায়ান্ট গুগল এর এলগরিদম আপডেট (পান্ডা-পেঙ্গুইন-ইএমডি) এর জন্য নতুন নতুন কাজের ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে আর এ কাজগুলোর মূল্যও অনেক বেশি। ফ্রিলান্সিং মার্কেটপ্লেস গুলোতে দেখা যায় যে, একটা পান্ডা বা  পেঙ্গুইন আক্রান্ত ওয়েবসাইট পুনরুদ্ধার কাজের মূল্য ১ হাজার থেকে ৩ হাজার ডলার হয়ে থাকে।

SEO

একজন  ফ্রিল্যান্স এসইও-র আয়
একজন সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজার এর আয় নির্ভর করে তার কাজ ও দক্ষতার উপর। যে যত বেশি দক্ষ তার আয়ও তত বেশি। সাধারণভাবে একটি সাইটকে গুগলের প্রথম পেজে আনতে সাইটের কিওয়ার্ডের উপর নির্ভর করে ২০০ থেকে ১ হাজার ডলার পর্যন্ত পাওয়া যায়। এছাড়া অন্যান্য কাজগুলো করে ঘন্টায় ন্যূণতম ২ ডলার থেকে শুরু করে ২০ ডলার পর্যন্ত আয় করা যেতে পারে। এছাড়াও নির্ধারিত মূল্যে ফোরাম পোস্টিং, লিংক বিল্ডিং, ব্যাক লিংক বা বুকমার্কিং করে ১০ ডলার থেকে শুরু করে ২০০ ডলার পর্যন্ত পাওয়া যেতে পারে। তবে এখানে মূলত আপনার কত সময় লাগবে এবং কোন কিওয়ার্ডের উপর কাজ করতে হবে সেটির উপর নির্ভর করে। তবে সাধারণত একজন দক্ষ সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজার অনায়াসেই মাসে ২০/৩০ হাজার থেকে শুরু করে লক্ষাধিক টাকা আয় করতে পারেন।

বাংলাদেশিরা কত আয় করছে
ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে বাংলাদেশিদের দাপট দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে। এখন বাংলাদেশিরা প্রায় সব বড় বড় মার্কেটপ্লেসেই ভালো অবস্থানে রয়েছেন। এ বছরের মাঝামাঝি সময়ে জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস ওডেস্ক ডট কম এর ভাইস প্রেসিডেন্ট অব  অপারেশনস ম্যাট কুপার-এর সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন ডেভসটিম লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আল-আমিন কবির। সে সাক্ষাৎকার থেকে জানা যায়, ২০০৯ সালে ওডেস্কের মোট কাজের মাত্র ২ শতাংশ করতেন বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সাররা। মাত্র দু’বছরে এ কাজের হার পৌছেছে ১২ শতাংশে। মার্কেটপ্লেসে বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয় স্থানে। এ বছরের প্রথম প্রান্তিকেই বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সাররা ওডেস্কে ৭ লাখ ২০ হাজার ঘন্টা কাজ করেছেন। আগের বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সারদের কাজের পরিমাণ ছিল সাড়ে চার লাখ ঘন্টা। বছরের শেষ প্রান্তিকে এটি দাঁড়ায় ছয় লাখ ঘন্টায়। প্রতি প্রান্তিকেই ১ লাখ ঘন্টা অতিরিক্ত যোগ হচ্ছে। আমরা বেশি কাজের পাশাপাশি বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সারদের দক্ষতার ব্যাপারে ইতিবাচক উন্নয়ন লক্ষ্য করছি। বিশেষ করে পণ্য বিক্রি এবং মার্কেটিং সংক্রান্ত কাজেই তাদের বেশি উন্নয়ন দেখা যাচ্ছে। এবছর বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সাররা মোট ২৮ লাখ ঘন্টা কাজ করবে! ওডেস্ক এর বিলিয়ন ডলারের এ মার্কেটপ্লেসের ১২ শতাংশ এখন আমাদের দখলে, আর এর মধ্যেই সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও) এর কাজ সবচেয়ে বেশি করা হয়। শুধু ওডেস্ক নয় অন্যান্য  মার্কেটপ্লেসেও সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও) এর কাজে বাংলাদেশিদের পদাচারণা বাড়ছে। সম্প্রতি ফ্রিল্যান্সার ডট কম আয়োজিত ‘কন্টেন্ট রাইটিং ও সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও)- ২০১২’ প্রতিযোগিতায় পাকিস্থান, অস্ট্রেলিয়ার মতো  বিশ্বের বাঘা বাঘা দেশের ফ্রিল্যান্সারদের হারিয়ে বাংলাদেশের সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ও ইন্টারনেট মার্কেটিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ডেভসটিম লিমিটেড প্রথম হয়। আর এ জন্য সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও) বিশ্বে বাংলাদেশ এখন খুব পরিচিত একটা নাম।

SEO Careerআপনি যদি ইংরেজিটা মোটামুটি জানেন তবে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন শেখা শুরু করে দিতে পারেন। এসইও-র এমন কিছু কাজ আছে যেগুলো খুব কঠিন কিছু নয়। দু’তিন মাসের ট্রেনিং নিয়েই এ ধরণের কাজ করা যায়। কোথায় পাবেন প্রশিক্ষণ? ইন্টারনেট থেকেই শিখতে পারেন সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের খুঁটিনাটি। তবে যদি হাতে কলমে এসইও শিখতে চান তবে ডেভসটিম ইনস্টিটিউটের অ্যাডভান্স এসইও বিষয়ক প্রশিক্ষণেও অংশ নিতে পারেন, এখানে হাতে কলমে এসইও-র সবকিছু শেখানো হয়ে থাকে। তাহলে আর দেরি কেন, আজ থেকেই শুরু করুন। আমরা আপনার সফলতার গল্প শোনার অপেক্ষায় থাকলাম।

লেখক: এসইও প্রজেক্ট ম্যানেজার, ডেভসটিম লিমিটেড

comments

Comments

  1. ভাই আমি নতুন শিখতেছি । আপনার পোস্টটা পড়ে শেখার উৎসাহ আরো বেড়ে গেল । ধন্যবাদ আপনাকে।

  2. Tips In Bd says:

    আমি জানতে চাচ্ছি যে, marketplace ছাড়া বিশ্বস্ত buyer বা client এর সাথে কি direct যোগাযোগ করা যায়?

মন্তব্য প্রদান করুন

*