এ বছর ওডেস্কে ২৮ লাখ ঘন্টাকাজ করবে বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সাররা : ম্যাট কুপার

লেখক : , প্রকাশকাল : 18 January, 2013

রাজধানীর গুলশানে এমানুয়েলস ব্যানকুয়েট হলে অনুষ্ঠিত কনট্রাক্টর অ্যাপ্রেসিয়েশন ডে উপলক্ষ্যে ঢাকায় এসেছিলেন ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেস ওডেস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট অব অপারেশনস ম্যাট কুপার। বাংলাদেশি সফল ফ্রিল্যান্সারদের স্বীকৃতি প্রদান, তাঁদের মতামত নেয়া এবং ওডেস্কের নতুন কিছু সুবিধা সম্পর্কে ফ্রিল্যান্সারদের অবহিত করা সহ বেশকিছু উদ্দেশ্য নিয়ে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়েছিল। ম্যাট কুপারের ঢাকা আসা উপলক্ষ্যে তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন আমি। সে সাক্ষাৎকারটি এখানে প্রকাশ করা হল।

১৪ এপ্রিল ২০১২, বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টা। রাজধানীর ঢাকা রিজেন্সি হোটেলের লবিতে গিয়ে বসতে না বসতেই সেখানে এলেন ভিপি অব অপারেশনস ম্যাটকুপার এবং প্রতিষ্ঠানটির কনট্রাক্টর অ্যাপ্রেসিয়েশন ম্যানেজার মনিকা চুয়া। প্রথমে কথা হলো কনট্রাক্টর অ্যাপ্রেসিয়েশন ডে অনুষ্ঠান নিয়ে, জানতে চাইলাম অনুষ্ঠানটি আয়োজনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে।

Matt Cooper
‘আমাদের সাইটে সবাই অনলাইনে কাজ করে। একে অন্যের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ খুব কমই হয়ে থাকে। অনলাইনেই তাই ওডেস্ক সম্পর্কে এবং নিজের জীবন সম্পর্কে নানা আপডেট দেন আমাদের কনট্রাক্টররা (ফ্রিল্যান্সাররা)। জানুয়ারির প্রথম দিকে একজন ওডেস্ক গ্রাহক নিজের কাজ সম্পর্কে টুইটারে একটি আপডেট প্রকাশ করেন। অন্য ফ্রিল্যান্সাররা সেখানে জয়েন করেন এবং নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে থাকেন। তাঁদের এ আলোচনা থেকে আমরা জানতে পারি তাঁরা একে অন্যের সঙ্গে অভিজ্ঞতা শেয়ারিংয়ে কতটা আগ্রহী। সেখান থেকেই আমরা কনট্রাক্টর অ্যাপ্রেসিয়েশন ডে অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করি। এরপর অনলাইনে ভোটাভুটির আয়োজন করলে অধিকাংশ ফ্রিল্যান্সাররা ঢাকাতে এ দিবসটি পালনের দাবী জানান। আমরা ঢাকার পক্ষে ৫ হাজারেরও বেশি ভোট পেয়েছিলাম। আর এরপরেই মূলত আয়োজন’ জানালেন ম্যাট।

অনুষ্ঠানটি কেমন হল বলে মনে করেন? পাশ থেকে উত্তর দিলেন ওডেস্ক কনট্রাক্টর অ্যাপ্রেসিয়েশন ম্যানেজার মনিকা চুয়া। বাংলাদেশী কনট্রাক্টররা অসাধারণ এনার্জেটিক! সবাই আগ্রহের সঙ্গে আমাদের কথা শুনেছে, প্রশ্ন করেছে। তাদের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আর আনন্দঘন এ উৎসব নিজেরাও বেশ উপভোগ করেছি!

কথা হল বৈশ্বিক ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং বাজার সম্পর্কে। ম্যাট কুপার জানালেন, ‘অনলাইন কাজের এ বাজার নির্দিষ্ট কোন সীমারেখায় আটকে নেই, প্রতিনিয়তই এর পরিধি বাড়ছে। সম্প্রতি আমাদের সার্ভে থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, ৭ হাজারেরও বেশি গ্রাহক প্রতিষ্ঠান বর্তমানে আমাদের সাইটের মাধ্যমে কাজ দিচ্ছে। এরমধ্যে ৭৬ শতাংশ প্রতিষ্ঠান দীর্ঘস্থায়ী চুক্তির ভিত্তিতে কাজ করানোর মানুসিকতা নিয়েই আমাদের সাইটে এসেছেন। মোট গ্রাহক প্রতিষ্ঠানের ৮৭ শতাংশ মানুষ মনে করেন যে অনলাইনে দক্ষ কর্মীদের দিয়ে কাজ করিয়ে নেওয়া সাধারণ বিষয়ে পরিণত হবে।’

Matt 2

এ তো গেল বায়ার এবং ফ্রিল্যান্স কাজ করিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে মতামত। জানতে চাইলাম প্রথাগত কর্পোরেট চাকরির চেয়ে ফ্রিল্যান্সার হিসাবে কাজ করলে একজন দক্ষ কর্মী কোন সুবিধাগুলো বেশি পাচ্ছে? ‘কর্পোরেট চাকরির চেয়ে অনেকভাবেই বেশি সুবিধা পাচ্ছেন ফ্রিল্যান্সাররা। নিজে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন, পাশাপাশি আয়ের বিষয় চিন্তা করলেও দেখা যায় তাঁরা কর্পোরেট চাকরির চেয়েও অনেক বেশি আয় করছেন। এছাড়া তাদের আয়ের হার কর্পোরেট চাকরির চেয়ে অনেক বেশি। ওডেস্কের সার্ভে অনুযায়ী, প্রথম বছর একজন ফ্রিল্যান্সার যে মূল্যে শ্রম দিয়ে থাকেন পরবর্তী বছর তা ৬০ শতাংশ বেড়ে যায়! প্রথম বছরে কেউ প্রতিঘন্টা ১০ ডলার মূল্যে কাজ করলেও পরবর্তী বছরে তার ন্যূনতম শ্রমমূল্য প্রতিঘন্টায় ১৬ ডলারে গিয়ে দাড়ায়। কোন কর্পোরেট অফিসেই বেতন এই হারে বৃদ্ধি সম্ভব নয়!’

বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা মার্কেটপ্লেসে কেমন কাজ করছে? ‘আমরা বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সারদের অসাধারণ অগ্রগতি লক্ষ্য করছি। ২০০৯ সালে ওডেস্কের মোট কাজের মাত্র ২ শতাংশ করতেন বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সাররা। মাত্র দুবছরে এ কাজের হার পৌছেছে ১২ শতাংশে। মার্কেটপ্লেসে বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয় স্থানে। এবছরের প্রথম প্রান্তিকেই বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সাররা ওডেস্কে ৭ লাখ ২০ হাজার ঘন্টা কাজ করেছেন। আগের বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সারদের কাজের পরিমাণ ছিল সাড়ে চার লাখ ঘন্টা। বছরের শেষ প্রান্তিকে এটি দাঁড়ায় ছয় লাখ ঘন্টায়। প্রতি প্রান্তিকেই ১ লাখ ঘন্টা অতিরিক্ত যোগ হচ্ছে। আমরা বেশি কাজের পাশাপাশি বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সারদের দক্ষতার ব্যাপারে ইতিবাচক উন্নয়ন লক্ষ্য করছি। বিশেষ করে এসইও এবং ইন্টারনেট মার্কেটিং সংক্রান্ত কাজেই তাদের বেশি উন্নয়ন দেখা যাচ্ছে। আমরা প্রত্যাশা করছি এবছর বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সাররা মোট ২৮ লাখ ঘন্টা কাজ করবে!’

ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং সেক্টরে বাংলাদেশের এ অভাবনীয় উন্নয়নের গল্প শুনে বাংলাদেশি হিসাবে ততক্ষণে গর্ববোধ হচ্ছিল। জানতে চাইলাম বাংলাদেশিরা মূলত কোন কাজগুলো বেশি করে থাকে? ‘ডাটা এন্ট্রি এবং সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের কাজ বেশি হয়ে থাকে। মোট কাজের ৪২ ভাগই এ বিভাগের। এছাড়া ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ওয়েব ডিজাইন এবং ক্লায়েন্ট সাপোর্ট ছাড়াও সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট সহ অন্যান্য কাজও করছেন বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সাররা।’ বললেন ম্যাট-বিলিয়ন ডলারের এ মার্কেটপ্লেসের ১২ শতাংশ এখন আমাদের দখলে, এ পরিমাণ টা আরও কিভাবে বাড়ানো যেতে পারে। ম্যাট জানালেন, ‘দক্ষতার উন্নয়ন! ওয়েব ডেভেলপমেন্ট বা সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট সংক্রান্ত কাজে প্রকল্প ব্যয় বেশি হয়ে থাকে। বেশি ব্যায়ের এ প্রকল্পগুলো ইউরোপ এবং ভারতের দখলে। এধরণের কাজগুলোতে বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সারদের আরও বেশি স¤পৃক্ত হতে হবে। এক্ষেত্রে দক্ষতা উন্নয়নের কোন বিকল্প নেই। দেখা যায় বাংলাদেশি একজন সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজার যেখানে প্রতি ঘন্টার জন্য ৩ থেকে ৫ ডলার মূল্যে কাজ করেন সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের একজন ওয়েব ডেভেলপার প্রতি ঘন্টার জন্য ৩০ থেকে ১০০ ডলার পর্যন্ত চার্জ করে থাকেন। কেবল তাঁর দক্ষতার কারণেই এত বিপুল পরিমাণ অর্থ তিনি চার্জ করতে পারছেন। এক্ষেত্রে বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সারদের জন্য আমাদের পরামর্শ তোমর দক্ষতা উন্নয়নে বেশি গুরুত্ব দাও।’

ম্যাটের এ ইন্টারভিউ যেদিন নিতে যাবো তাঁর আগের দিন অনুষ্ঠিত কনট্রাক্টর অ্যাপ্রেসিয়েশন ডে অনুষ্ঠানে কথা হয়েছিল বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার এন্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)-এর অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত ফ্রিল্যান্সার শাওন ভূইয়ার সঙ্গে। তিনি অভিযোগ জানিয়েছিলেন, ইল্যান্স ডটকম সহ বেশকিছু সাইটে ফ্রিল্যান্সারদের ন্যূনতম শ্রমমূল্য ৩ ডলার নির্দিষ্ট করা আছে। তবে ওডেস্কে সর্বনিু কোন শ্রমমূল্য নেই। এ কারণে নতুন অনেক ফ্রিল্যান্সার খুব কমমূল্যে সাইটটিতে কাজ করছেন। ইন্টারভিউয়ের সময় প্রসঙ্গটি তুলেছিলাম ম্যাটের কাছে। ‘একজন ফ্রিল্যান্সার তাঁর দক্ষতা অনুযায়ী শ্রমমূল্য নির্ধারণ করে থাকেন। এক্ষেত্রে উভয়পক্ষ সম্মত হলেই কাজ শুরু হয়। একজন ফ্রিল্যান্সার কম মূল্যে কাজ করবেন এটি তাই আমরা তাঁকেই নির্ধারণ করতে বলি। আপাতত আমাদের ন্যূনতম শ্রমমূল্য নির্ধারণের কোন পরিকল্পনা আমাদের নেই।’ জানিয়েছিলেন ম্যাট।

ম্যাটের সঙ্গে কথা বলতে বলতে কখন যে ঘন্টা পার হয়ে গেল বুঝতেই পারিনি। এবার ওঠার পালা, জিজ্ঞাসা করলাম আবার কবে বাংলাদেশে আসবে?হাসলেন ম্যাট। বললেন, কোন এক বৃষ্টির দিনে! আমরাও হাসলাম, শেষ করলাম সেদিনের দীর্ঘ ইন্টারভিউ পর্ব।

comments

Comments

  1. ABDUL KADER says:

    সত্যিই সু সংবাদ বটে আমরা যারা odesk এর মত প্লাটফর্ম এ কাজ করি । আমরা চাই আমাদের freelancer রা এগিয়ে যাক আরও বহুদূর ।
    থ্যাংকস এডমিন

  2. satyenbiswas says:

    This post very essentially for odesk freelancer.

  3. tutorialbd says:

    This is very good post for freelancer in our country.

  4. ahadul islam says:

    2010 sale odesk join diyesi aj porjonto kono kaj paini. ki lav holo. but sob niomaboli thik ache

মন্তব্য প্রদান করুন

*